রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন-পরিবেশ আইন না মেনে দেদারছে চলছে পাহাড় কাটা। বাড়ি নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য পাহাড় কাটছে একটি চক্র। পাহাড়ের মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে। দিনে রাতে পাহাড় কাটা হলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা।
গত কয়েক বছরে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও বন্ধ হয়নি পাহাড় কাটা। বিনা বাধায় পাহাড় খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিবেশ সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করে কক্সবাজার সদরস্থ পিএমখালীতে একাধিক পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিয়েছেন বন পরিবেশের একাধিক মামলার সদ্য জেলফেরত আসামি জাহাঙ্গীর আলম।
গত মাসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন সহকারি কর্মকর্তা (উত্তর) প্রান্তোষ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পাহাড়ের মাটিসহ একটি ডাম্পার বন সহকারি কর্মকর্তা (উত্তর) প্রান্তোষ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ধৃত করা হয়।এই ডাম্পার গাড়ির মালিক হলো সাবেক মেম্বার সুলতান আহমদের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম।পরে ধৃত ডাম্পার গাড়িটি বিভাগীয় বন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরও ডাম্পার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর পাহাড় কাটা বন্ধ করেননি। বিকল্প ডাম্পার দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন মাটি বিক্রি ব্যবস্থা।
একটি সূত্র জানিয়েছে, বনবিভাগ কর্তৃক জব্দ করা ডাম্পার নিয়ে বনবিভাগের লোকজন এলাকা ত্যাগ করার পর মূহুর্তে সময়ক্ষেপণ না করে অন্য ডাম্পার নিয়ে নির্ধারিত স্থানে সারারাত মাটি ফেলেন সুচতুর জাহাঙ্গীর। এরপর থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে একেরপর এক একাধিক স্থানে চড়ামূল্য মাটি ভরাটের কাজ করে যাচ্ছে সে। ইতিমধ্যে তিনি অসংখ্য পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিয়েছেন।
পাহাড় খেকো জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, রাত গভীরে পাহাড় কাটার মিশন শুরু করেন। এসব পাহাড়ের মাটি চড়া দামে বিক্রি করছে সে। রেঞ্জ অফিসার আব্দুল জব্বারকে ম্যানেজ করে তার চলছে পাহাড় কাটা মাটির ব্যবসা। সারা রাত চলে তার ডাম্পারভর্তি মাটি পরিবহন।
সরেজমিন দেখা যায়, ধানি জমির টপ সয়েল ও একাধিক পাহাড়কে কয়েকটি লেয়ারে কাটা হয়েছে। ডাম্পারে করে পাহাড় কাটা মাটি পড়ে রাস্তা ঘাট ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক লক্ষ ঘনফুট মাটি কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছে। এসব মাটি ভরাট কাজে বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড় সন্নিকটে কিছু জমি কিনেছেন সাবেক মেম্বার সুলতান আহমদ। এরপর থেকে জমির মাথাকিলা দাবি করে পাহাড় ও বনভূমি দখলে রেখে (দখল) বিক্রি ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি শুরু করেছে। রাতের আঁধারে ৮/১০ জন শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটা হয়। রাতেই তা পরিবহন করে। দিনের বেলায় মাটি কর্তন ও পরিবহন কাজ বন্ধ থাকে। এব্যাপারে স্থানীয় কয়েকজন জানান, পাহাড় কাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কিন্ত আমরা কিছু বললে এলাকায় থাকতে পারব না। নির্বিচারে মাটি বিক্রি করায় আবুল কালাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিসহ অসংখ্য লোক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে পরিবেশবাদী সংগঠনের এক সদস্য বলেন, প্রতিরাতে প্রভাবশালী একটি মহল বুলডোজার ও স্কেভেটর দিয়ে অবাধে পাহাড় কেটে তা ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। রাত ১১টার পর পাহাড় কাটা শুরু করে আজানের আগেই শেষ করে। এসব পাহাড় কাটায় একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। প্রশাসনিকভাবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেদারছে চলছে পাহাড় কাটা। অবিলম্বে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে পাহাড় কাটার মূল হোতা জাহাঙ্গীর আলম মাটি বিক্রির বিষয় স্বীকার করে বলেন, আগে পাহাড়ের মাটি বিক্রি করলেও এখন পাহাড় কাটেনা। তাদের রেজিস্ট্রি জমি থেকে মাটি বিক্রি করেন। এ বিষয়ে রেঞ্জ অফিস জানেন কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে জাহাঙ্গীর বলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার কয়েকদিনের মধ্যে অন্য স্থানে ট্রান্সফার হয়ে চলে যাবেন। তাই যাওয়ার আগ মুহূর্তে তিনি যেন বিতর্কিত না হয়। তাই খতিয়ানি জমির মাটি হলেও রেঞ্জ কর্মকর্তা দিনের বেলায় ডাম্পার নিয়ে মাটি বহন না করার জন্য নিষেধ করছেন।তবে রাতের আঁধারে মাটি কেন কাটা হয়, সেই বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
মুঠোফোনে পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে জমি ভরাট করার বিষয়ে জানতে চাইলে দায়সারা জবাব দেয় রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রি জমি থেকে মাটি বালি আনলে তারা গাড়ি ধরতে পারেনা। কোন জায়গা থেকে মাটি আনছে তা আগে দেখতে হয়। পাহাড় না হলে অন্য জায়গা থেকে বালি আনলে তার করার কিছু নেই। পাহাড়ের মাটি বালি না হলে তো হলো।
এসিএফ ও ডিএফও ‘র (উত্তর) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মোবাইল ফোন রিসিভ না করাই তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম শেষ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে শাস্তি নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়া।
ভয়েস /জেইউ।